শ্রীরাম নবমী কেন পালন করা হয়?

আজ এই শ্রীরাম নবমী সনাতন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনটি পালন করা হয় কারণ এই দিনে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আমাদের কাছে কেন এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?

এটি ভগবান রামের জন্মতিথি (চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথি) শ্রীরামকে ধরা হয় ধর্ম, সত্য, ন্যায় ও আদর্শের প্রতীক তাঁর জীবন কাহিনী মূলত রামায়ণ বর্ণিত হয়েছে।

কীভাবে এই এটি পালন করা হয়?

উপবাস রেখে রামায়ণ পাঠ ও কীর্তন, মন্দিরে পূজা ও শোভাযাত্রা এবং রাম ভক্তরা “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দেওয়া।

শ্রীরাম নবমী আমাদের কি শেখায়?

সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, কর্তব্যপরায়ণ হওয়া, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা, সংক্ষেপে, শ্রীরাম নবমী শুধু একটি জন্মোৎসব নয়; এটি আমাদের আদর্শ জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা।

শ্রী রামের অস্ত্রের নাম কী?

শ্রী রামচন্দ্রের প্রধান ও বিখ্যাত ধনুকের নাম কোদণ্ড। তবে লঙ্কায় রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি বিশ্বামিত্র মুনির কাছ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন দিব্য অস্ত্র এবং ভগবান বিষ্ণুর শারঙ্গ ধনুক ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া রাবণ বধের জন্য তিনি পরম শক্তিশালী ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। 

রামের ব্যবহৃত প্রধান অস্ত্র ও ধনুকের তালিকাঃ-

১) কোদণ্ড: রাম যে ধনুকটি ব্যবহার করতেন, তাই কোদণ্ড নামে পরিচিত।
২) শারঙ্গ ধনুক: পরশুরামের কাছ থেকে পাওয়া বিষ্ণুর ঐশ্বরিক ধনুক।
৩) ব্রহ্মাস্ত্র: রাবণ বধের জন্য ব্যবহৃত ব্রহ্মাস্ত্র।
৪) অন্যান্য দিব্য অস্ত্র: ঋষি অগস্ত্য কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন দিব্য অস্ত্র।
 
রামচন্দ্র কোদণ্ড ধারণ করতেন বলে তাঁকে অনেক সময় 'কোদণ্ডধারী রাম' বলেও সম্বোধন করা হয়।

শ্রীরাম কোন অস্ত্র দ্বারা রাবনকে বধ করেছিলেন?

লঙ্কার প্রাঙ্গণে শুরু হলো ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। রাবণ দশমস্তক, বিশ বাহু নিয়ে মহাকায় রথে বসে আক্রমণ করছিলেন। আকাশ অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল তাঁর তীরবর্ষণে শ্রীরাম তখনো শান্ত, ধনুক হাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শেষ মুহূর্তে ঋষি অগস্ত্য মুনি শেখান আদিত্য হৃদয় স্তোত্র এবং তাঁর দেওয়া ইন্দ্রধনু পেয়ে শ্রী রাম সূর্যদেবকে প্রণাম করেন এবং নতুন শক্তি পান।

ধনুকের বর্ণনা কি?

১) এর দুই প্রান্তে সূর্য ও চন্দ্র জ্বলজ্বল করছিল।
২) এর দেহ গঠিত ছিল মহাকাশ থেকে, আর খাদটি তৈরি ছিল ইথার দিয়ে।
৩) এর ওজন ছিল মেরু ও মন্দার পর্বতের সমান।
৪) সোনায় সজ্জিত সেই ধনুকে ছিল সমস্ত উপাদানের শক্তি, সূর্যের তেজ, আর বজ্রসম দৃঢ়তা।
৫) এতে গরুড়-সহ নানা পাখির পালকযুক্ত অগণিত তীর ছিল।

এই অসাধারণ ধনুককে প্রজ্বলিত করেছিলেন স্বয়ং পরমেশ্বর আদিধনুরধর। রাম বিশেষ মন্ত্রে একে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তিনি হাতে নিলেন এক জ্বলন্ত তীর—যা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছিল। আর সেই তীরেই শ্রী রাম বিদ্ধ  করলেন রাবণকে।

শ্রী বাবলু মালাকার,
সনাতন ধর্মের বেদবেদান্ত প্রচারক,
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।

জয় শ্রীরাম,
হর হর মহাদেব।

Post a Comment

0 Comments