উপনয়ন সংস্কার বেদ গায়ত্রী মন্ত্রে

উপনয়ন পৈতা ও বেদ গায়ত্রী মন্ত্রে কি প্রত্যেক নারী পুরুষের নেওয়া বেদ সম্মত?


"বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠান ও উপনয়ন এবং ষোড়শ সংস্কার" ধর্মীয় আচার-আচরণ ও মাঙ্গলিক কর্মের বিধানঃ—

হিন্দু ধর্ম মতে মানব জীবনের ষোড়শবিধ সংস্কার মনুষ্য জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণকর করে গড়ে তোলার লক্ষে প্রাচীন ঋষিরা অনেক ধর্মীয় আচার-আচরণ ও মাঙ্গলিক কর্মের নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলোকে হিন্দু ধর্মের ধর্মাচার ও সংস্কার বলা হয়। এই সকল আচার-আচরণ ‘মনুসংহিতা’, ‘যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা’, ‘পরাশরসংহিতা’, প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রে (হিন্দু বিধি বিধানের গ্রন্থ) পাওয়া যায়।

স্মৃতিশাস্ত্রে ১৬ প্রকার সংস্কারের উল্লেখ আছেঃ—

গর্ভাধান, পুংসবন, সীমন্তোন্নয়ন, জাতকর্ম, নামকরণ, নিষ্ক্রমণ, অন্নপ্রাশন, চুড়াকরণ, কর্ণবেধ , উপনয়ন, বেদারম্ভ, সমাবর্তন, বিবাহ, বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস ও অন্ত্যেষ্টি।।

১। গর্ভাধানঃ— গর্ভসঞ্চারের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানকে বলা হয় গর্ভাধান। বর্তমানে এই সংস্কারের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে।

২। পুংসবনঃ— পুত্র সন্তান কামনা করে যে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে পুংসবন বলে। গর্ভাধানের মত এই সংস্কারটিও প্রায় হারিয়েই গেছে।

৩। সীমন্তোন্নয়নঃ— গর্ভধারনের পর ৬ বা ৮ মাসে সীমন্তোন্নয়ন করা হয়। এটি আমাদের সমাজে বর্তমানে সাধ-এর অনুষ্ঠান নামে পরিচিত।

৪। জাতকর্মঃ— জন্মের পর পিতা জব , যষ্টিমধু ও ঘৃত দ্বারা সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করে মন্ত্রোচ্চারণ করার মাধ্যমে জাতকর্ম সংস্কারটি পালন করা হত। এটিও আজকাল আর তেমন পালন করা হয় না।

৫। নামকরণঃ— সন্তান ভূমিষ্ঠ দশম, একাদশ, দ্বাদশ ও শততম দিবসে নামকরণ করণীয়।

৬। নিষ্ক্রমণঃ— গুহের বাইরে যেখানে নির্মল বায়ু সেখানে শিশুকে ভ্রমণ করানো। জন্মানোর তৃতীয় শুক্লপক্ষের
তৃতীয়াতে অথবা চতুর্খ মাসের জন্মতিথিতে।

৭। অন্নপ্রাশনঃ— পুত্রের ৬ মাসে এবং কন্যার ৫, ৮ বা ১০ মাসে প্রথম অন্নভোজনের নাম অন্নপ্রাশন।

৮। চুড়াকরণঃ— গর্ভাবস্থায় সন্তানের মস্তকে যে কেশ উৎপন্ন হয় তা মুণ্ডনের নাম চূড়াকরণ।
বর্তমানে চূড়াকরণের কাজটি অন্নপ্রাশনের দিন-ই করে ফেলা হয়। তাই এই অনুষ্ঠানটিও এখন আর আলাধা করে করা হয় না।

৯। কর্ণবেধঃ— জন্মের পর তৃতীয় বা পঞ্চম
বর্ষে শিশুর কর্ণভেদ করাতে হয়।

১০। উপনয়নঃ— ‘উপনয়ন’ শব্দের অর্থ ‘নিকটে নিয়ে যাওয়া’। যে অনুষ্ঠানের পর ছাত্রকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য গুরুর নিকটে নিয়ে যাওয়া হত তার নাম ছিল উপনয়ন।উপনয়ন শব্দের সহজ অর্থ যজ্ঞপবীত বা পৈতা ধারণ। বর্তমানে এই উপনয়ন সংস্কারটি আমাদের সমাজে ভিন্ন রূপে আছে। আগের মত আজকাল আর গুরুগৃহে বিদ্যাশিক্ষার জন্য প্রেরন না করা হলেও শিক্ষা জীবনের শুরুতে হাতেখড়ি বলে একটি অনুষ্ঠান আজও প্রচলিত আছে যেটা কিনা সাধারনত সরস্বতী পুজোর সময় করা হয়।

১১। বেদারম্ভঃ— ব্রহ্মচর্যাশ্রম তথা গুরুকুলে থেকে শিক্ষলাভ যা বর্তমানে ছাত্রজীবন।

১২। সমাবর্তনঃ—  প্রাচীনকালে পাঠ শেষে গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হত তাকে সমাবর্তন বলা হত। এটি আজকাল আর গৃহে প্রচলিত না থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও প্রচলিত আছে। বরং এটি এখন ধর্মের সংস্কারের গন্ডি পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বৃহৎ রুপ পেয়েছে।

১৩। বিবাহঃ— যৌবনে দেব ও পিতৃ পুজার মাধ্যমে নারী-পুরুষের মিলনের যে অনুষ্ঠান করা হয় তাকে বিবাহ বলে। স্মৃতিশাস্ত্রের ১০ টি সংস্কারের মাঝে এই সংস্কারটির অস্তিত্বই সবচে প্রকট।

১৪। বানপ্রস্থঃ— পুত্র যখন গৃহস্থ ধর্ম গ্রহণ করবে এবং পুত্রেরও সন্তান জন্ম নেবে এবং নিজের ৫০ বৎসর পূর্ণ
হলে বানপ্রস্থ অবলম্বন করে সংসার থেকে দূরে বসবাস
করবেন।

১৫। সন্যাসঃ— সম্পুর্ণরূপে সবকিছুই ত্যাগ করে পরমাত্মার প্রতি সন্যাসী বেদ শাস্ত্র দ্বারা সন্যাস এরূপ তৈরি হয়।

১৬। অন্ত্যেষ্টিঃ— মৃত্যুর পর শাস্ত্রবিধি মোতাবেক শ্রাদ্ধাদি।

উপনয়ন কী?

উপনয়ন’ শব্দের অর্থ ‘নিকটে নিয়ে যাওয়া’। যে অনুষ্ঠানের পর ছাত্রকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য গুরুর নিকটে নিয়ে যাওয়া হত তার নাম ছিল উপনয়ন।উপনয়ন শব্দের সহজ অর্থ যজ্ঞপবীত বা পৈতা ধারণ।

নারীর উপনয়ন (পৈতা)

ওম্ অগ্নে ব্রতপতে ব্রতং চরিষ্যামি তচ্ছকেয়ং তন্মে রাধ্যতাম্। ইদমহমনৃতাৎ সত্যমুপৈমি।। (যজুর্বেদ, ১/৫)

অনুবাদঃ— হে ব্রতপতে অগ্নে! আমি ব্রত ধারণ করছি যে, আমি যেন অসত্যকে ছেড়ে সত্যকে জানি, সত্যকে মানি ও সদা সত্য ব্যবহার করি। হে প্রভু! তুমি আমাকে এমন সামর্থ্য প্রদান করো যেন আমার এই সত্যব্রত সদা সত্য সিদ্ধ হয়।

"স্মৃতিচন্দ্রিকা" স্মৃতিকার হারিত বলছেন—
"দ্বিবিধা স্ত্রীযো ব্রহ্মবাদিন্যঃ সদ্যঃবদ্ধশ্চ তত্র তত্র ব্রহ্মবাদিনীনাম্ অগ্নিণ্বধনম্ বেদাধ্যয়ম্ স্বগৃহে চ ভিক্ষাচর্যা ইতি।।

পুরাকালে কুমারীদের মোউংজি বন্ধন (উপনয়ন ) হত,তাদের বেদ পাঠ শিক্ষা দেওয়া হত, এবং গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণের পদ্ধতি শেখানো হত রজস্বলা হইবার পূর্বে গুরু গৃহ হতে সমাবর্তনও হত।

সপ্তম শতকে মহাকবি বানভট্ট দুটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন কাদম্বরী ও হর্ষচরিত কাদম্বরী গ্রন্থে কাদম্বরীর উল্লেখ্য চরিত্র হল মহাশ্বেতা। মহাশ্বেতার বর্ণনা দেখি-তিঁনি যখন তপশ্চযার রত তখন ব্রহ্মসূত্র বা যজ্ঞ উপবীত ধারণ করায় তাঁর শরীর পবিত্র হয়ে উঠেছিল। হর্ষচরিতে সরস্বতী সম্বন্ধে একইভাবে বলা আছে কাঁধ থেকে লম্বমান যে যজ্ঞ উপবীত, তার দ্বারা সরস্বতীর দেহ পবিত্র হয়ে উঠেছিল।

(ঋগ্বেদ ১০/০৫/৪১) মন্ত্রে বিবাহ সংস্কারে স্পষ্ট বলা হয়েছে পতির সামনে যজ্ঞ উপবীত ধারিণী কন্যা।

বর্তমানে এই উপনয়ন সংস্কারটি আমাদের সমাজে ভিন্ন রূপে আছে। আগের মত আজকাল আর গুরুগৃহে বিদ্যাশিক্ষার জন্য প্রেরন না করা হলেও শিক্ষা জীবনের শুরুতে হাতেখড়ি বলে একটি অনুষ্ঠান আজও প্রচলিত আছে যেটা কিনা সাধারনত সরস্বতী পুজোর সময় করা হয়।

দুঃখের বিষয় এখন শুধু ব্রাহ্মণরা পূজা করার জন্য উপনয়ণ গ্রহন করেন। দ্বিজ প্রত্যেক সংহিতা প্রনেতাই বলেছেন ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এই তিন জাতির উপনয়ন হবে। শূদ্র জাতির জন্য নিষিদ্ধ।

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বর্ণের জন্য উপনয়নের ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে সাত, তেরো ও সতেরো বছর। উপনয়নকালে বালকদের ব্রহ্মোপদেশ শিক্ষা দেওয়া হয়। মনুস্মৃতি অনুযায়ী, এরপর তারা ব্রহ্মচারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেই উপনয়ন সংস্কার প্রচলিত। ব্রাক্ষ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এই তিন বর্ণ দ্বিজাতি তাদের প্রথম জন্ম মাতৃ গর্ভে দ্বিতীয় জন্ম উপনয়নে।

নারীর যজ্ঞোপবীত সংস্কার ক্ষেত্রেঃ—

"ব্রহ্মচর্যেণ কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্ ।"
(অথর্ববেদ, ১১/৫/১৮)

অনুবাদঃ— ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করিবার পর (বেদাদিশাস্ত্র অধ্যয়নপূর্বক বিদ্যা লাভ করিয়া), কুমারী কন্যা যৌবনকালে বিদ্বান পতিকে লাভ করিবে।

আর, সকলেই জানি যে, ব্রহ্মচর্য ব্রত পালনের পূর্বশর্ত হচ্ছে উপনয়ন সংস্কার বা গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যজ্ঞোপবীত (পৈতা) ধারণ। সুতরাং, বেদ অনুযায়ী নারীর যজ্ঞোপবীত ধারণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

প্রাবৃতাং যজ্ঞোপবীতিনীমম্যুদানয়ন্ জপেৎ।
"সোমোহদদদ্ গন্ধর্বায়েতি ।।"
(গোভিল গৃহ্যসূত্রঃ ২/১/১৯)

অনুবাদঃ— সুবস্ত্রশোভিতা (যজ্ঞোপবীতিনীম্) যজ্ঞোপবীত পরিহিতা কন্যাকে দান করিয়া "সোমদদদ্" আদি মন্ত্র জপ করিবে। (গোভিল গৃহ্যসূত্রঃ ২/১/১৯)

সকল কুমারী কন্যার উচিত বেদজ্ঞ আচার্য্যের নিকট উপনীত হয়ে যজ্ঞোপবীত (পৈতা) ধারণ করা এবং ব্রহ্মচর্য ব্রত পালন করা।

বৈদিক যুগে নারীদের পবিত্র ব্রম্মসুত্রের দিয়ে দীক্ষিত করা হত, অর্থাৎ তাদের উপনয়ন হত তারা। ব্রক্ষ্মা গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারন করতেন পবিত্র অগ্নির আরাধনা করতেন। যা একজন পুরুষের সমান, কোন অংশে কম নয়, যা আজ আমরা চিন্তাই করতে পারিনা। ব্রাহ্মণবাদী নীরা আর সদ্যবধু নামে নারীদের দুইটা ভাগ ছিল, একটা পবিত্র উৎসবের মাধ্যমে ব্রম্মসুত্রের দ্বারা উপনীত করে যাদের বিয়ে হত তারাই সদ্য বধু। ব্রাহ্মণবাদী নারী বিয়ে করতেন না তারা পুরুষের ন্যায় ব্রহ্মচর্য পালন করতেন।

উপকুরবান ব্রহ্মচারীরা গুরুগৃহে অধ্যয়ন শেষে পিতৃ গৃহে গিয়ে বিয়ে করে গার্হস্থধর্ম পালন করতেন। মহাভারতের পাণ্ডব মাতা কুন্তিও ব্রম্মসুত্র দিয়ে ভূষিত হয়েছিলেন। এই রকম অনেক উদাহরণ আছে সনাতনে সকলে এই দশবিধ নিয়ম পালন করে যথাযথ জ্ঞান অর্জন না করলে ভবিষৎ এ অনেক বড় ক্ষতির সম্মূখীন হবে সনাতন সমাজ। পরিশেষে একটা কথা বলব শুধু ছেলেরা নয় মেয়েরা ও এই বিধান পালন করুন।

বিবাহই নারীর একপ্রকার বৈদিক উপনয়ন। পতিসেবা হলো গুরুগৃহবাস, গৃহকর্ম হলো হোমস্বরূপ অগ্নিপরিচর্যা। (মনুসংহিতা, ২/৬৭)

উপনয়ন ও যজ্ঞোপবীতঃ—

উপ = নিকটে, নয়ন = চোখ। উপনয়ন একটি হিন্দু শাস্ত্রানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু বালকেরা ব্রাহ্মণ্য সংস্কারে দীক্ষিত হয়। হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে, উপনয়ন হিন্দু বালকদের শিক্ষারম্ভকালীন একটি অনুষ্ঠান।

হিন্দুধর্মে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বর্ণের জন্য উপনয়নের ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে সাত, তেরো ও সতেরো বছর। উপনয়নকালে বালকদের ব্রহ্মোপদেশ শিক্ষা দেওয়া হয়। মনুস্মৃতি অনুযায়ী, এরপর তারা ব্রহ্মচারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে অবশ্য কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেই উপনয়ন সংস্কার প্রচলিত। উপনয়ন অনুষ্ঠানে শরীরে যজ্ঞোপবীত বা উপবীত (চলিত বাংলায় পৈতে) ধারণ করা হয়। উপবীত প্রকৃতপক্ষে তিনটি পবিত্র সূতো যা দেবী সরস্বতী, গায়ত্রী ও সাবিত্রীর প্রতীক। উপবীত ধারণের সময় উপবীতধারী গায়ত্রী মন্ত্র শিক্ষা করে।

উপনয়নের পর ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের দ্বিজ বলা হয়, দ্বিজ শব্দের অর্থ দুইবার জাত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রথমবার ব্যক্তির জন্ম হয় মাতৃগর্ভ থেকে এবং দ্বিতীয়বার জন্ম হয় উপবীত ধারণ করে। ভগবানকে পাওয়ার জন্য যে জ্ঞান, সেই জ্ঞান অর্জনের জন্য গায়ত্রীমন্ত্র সাধনের অধিকার লাভ করবার অনুষ্ঠানকে উপনয়ন বলে৷

যজ্ঞোপবীতের/পৈতার এক এক একটি সুত্রে এক একজন দেবতা আছেন, ১ম তন্তুতে ওঁকার, ২তন্তুতে অগ্নি, ৩ তন্তুতে অনন্তনাগ, ৪ তন্তুতে চন্দ্র, ৫ তন্তুতে পিতৃগণ, ৬ষ্ঠ তন্তুতে প্রজাপতি, ৭ম তন্তুতে বসুগন, ৮ম তন্তুতে যক্ষ। ৯ম তন্তুতে শংকর৷

এই যজ্ঞোপবীতের/পৈতার ঊৎপত্তি সম্বন্ধে গৃহ্যাসংগ্রহে বর্ণিত আছে।

“ব্রহ্মেণোৎপাদিতং সূত্রং বিষ্ণুনা ত্রিগুণীকৃতম্।
রুদ্রেণ তু কৃতো গ্রন্থিঃ সাবিত্রায়াচাভিমন্ত্রিতম্.”

অর্থাৎ ব্রহ্মা সূত্র প্রস্তুত করেন, বিষ্ণু ৩ দণ্ডী করেন, রুদ্র গ্রন্থি দেন ও সাবিত্রী মন্ত্র পূত করেন৷

মনুষ্যদেহ ৯ দ্বার যুক্ত - ২ চোখ, ২ কান, ২ নাক, মুখ, লিঙ্গ ও পায়ু এই ৯ দ্বার দিয়েই আমাদের শরীরে পাপ প্রবেশ করে। এই নবদ্বার বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্বরূপ ৯ টি তন্তু সমৃ্দ্ধ যজ্ঞোপবীত বা পৈতা৷ যজ্ঞোপবীতে ৩টি গিঁট বা "ব্রহ্ম গ্রন্থি" থাকে। এই সূত্রত্রয় কর্তব্যপরায়ণ মানুষকে তিনটি ঋণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সেই ঋণত্রয় হলঃ—

১) 'দেব-ঋণ' অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতি ঋন বা দায়িত্ব।
২) 'পিতৃ ঋণ' অর্থাৎ পিতামাতা, পরিবার পরিজান ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব।
৩) 'ঋষি-ঋণ' অর্থাৎ বৈদিক ঋষিগন যে মানবকল্যানের বিধিবিধান দিয়ে গেছেন তার প্রতি দায়িত্ব পালন।

উপনয়নে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার। আমরা দেখব প্রাচীন বৈদিক সমাজে নারীশিক্ষার ও নারীদের উপনয়ন তথা ব্রহ্মচর্য জীবন পালনের একটি সংস্কার।

পাণিনি তার সংস্কৃত ব্যকরন শাস্ত্রে ছাত্রীদের ব্রহ্মচর্যের প্রতিষ্ঠান ছাত্রীশালা ও এর মহিলা অধ্যাপক আচার্যনি এর এর উল্লেখ করেছেন -

"মাতুলাচার্যাণামানুক্ত" (পাণিনি, ৪/১/৪৬) এবং "ছাস্যাদযঃ ছাত্রীশালাযাম্" (পাণিনি, ৬/২/৭৬)। ব্রহ্মচারিনী ছাত্রীদের নারী শিক্ষক উপদেষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায় (ঋগ্বেদ, ১/৩/১১) ও (ঋগ্বেদ, ১০/১৫৬/২) প্রভৃতিতে।

অথচ ভন্ড পৌরানিক পুরোহিতগন পুরুষতন্ত্র কায়েম করতে একসময় নারীদের শাস্ত্রপাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল, সতীদাহের মত জঘন্য প্রথা চালু করেছিল।

সনাতন বৈদিক ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার প্রধান ধর্মগ্রন্থের প্রাপক ও প্রচারকদের মহামনিষীদের মধ্যে নারী ঋষিকাগন ছিলেন যা পৃথিবীর অন্য কোন রিলিজিয়ন (ধর্ম একটিই, বৈদিক ধর্ম, বাকীগুলো মার্গ) এর পক্ষে চিন্তা করাও অসম্ভব। চলুন দেখে নিই পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে কিছু শ্রদ্ধেয় নারী ঋষিকার নাম -

১) ঘোষা (ঋগ্বেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা, ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা), ২) লোপামুদ্রা, ৩) মৈত্রেয়ী, ৪) গার্গী, ৫) পৌলমী, ৬) রোমশা, ৬) অপালা, ৭) বাক (ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসুক্তের দ্রষ্টা), ৮) অপত, ৯) কত্রু, ১০) বিশ্ববর, ১১) জুহু, ১২) ভগম্ভ্রীনি (মহর্ষি অম্ভ্রন এর কন্যা, ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা), ১৩) যরিতা, ১৪) শ্রদ্ধা, ১৫) উর্বশী,১৬) স্বর্ণগা, ১৭) ইন্দ্রানী, ১৮) সাবিত্রী, ১৯) দেবায়নী, ২০) নোধা, ২১) আকৃষ্ভাষা, ২২) শীকাতনবাবরি, ২৩) গণ্পায়নী,২৪) মন্ধত্রী, ৫) গোধ, ২৬) কক্ষিবতী, ২৭) দক্ষিনা, ২৮) অদিতি, ২৯) রাত্রি (মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা, ৩০) শ্রীলক্ষ।

নিজেকে ব্রাম্মন দাবিকারিরা কি প্রকৃত ব্রাম্মন?
চলুন যে শাস্ত্র পুজি করে এরা পেটে ভাত ও সম্মান জোগায় সেই শাস্ত্র কি বলে দেখি!

এই ক্রমে যেইরুপে শূদ্র ব্রাহ্মণ হয়, তদ্রুপ ব্রাহ্মণ এর ও শূদ্রত্ব প্রাপ্তি হয়, ক্ষত্রিয়ও বৈশ্য সম্বন্ধে ও ঐ রুপ জানিবে। (মনুসংহিতা দশম অধ্যায়)

মনুর সঙ্কর জাতির উল্লেখ থেকে মনে হয় বর্ণব্যবস্থার কড়াকড়ি থাকলেও প্রাণের টান ও আবেগের কাছে সমস্ত কঠোরতা হার মেনেছে। সমাজ অসবর্ণ বিবাহকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, শাস্ত্রকারদের অনেক অমানবিক বিধান লোকে মেনেও চলত না। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকেই নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশা গ্রহণ করত। মনুসংহিতার ১০ম অধ্যায়ে চার বর্ণের আপৎকালীন বৃত্তি গ্রহণের কথা সবিস্তারে বলা হয়েছে।

এখন ব্রাহ্মণ দাবিকারিগন হাজার অযোগ্য হলেও সে ব্রাহ্মণই! আর শূদ্র হাজার গুনে যোগ্য হলেও সে শূদ্রই! ব্রাহ্মনত্ব,শূদ্রত্ব জম্মগত হয়ে দাড়াইয়াছে!

শৌনক ঋষি চার বর্নের প্রবর্তক তিনি তার চার পুত্রের স্বভাব অনুসারে চারজনকে চার শ্রেনীতে ভাগ করেছেনঃ—

ব্রহ্ম বলিয়াছেন যে শূদ্রও যদি প্রবিত্র কার্যাদির দ্বারা বিশুদ্বাআন্তা ও জিতেন্দ্রিয় হয়, তবে তাকে ব্রাহ্মণদের ন্যায় সমাদর করা কতব্য ফলত আমার মতে (শিবের মতে) শ্রদ্ব সচ্ছরিত্র ও সৎ কর্মান্বিত হলে ব্রাম্মন অপেক্ষা প্রসংশনিয় হয়,কেবল জন্ম,সংঘাত শ্রাস্ত্র জ্ঞান এখান ও কুল ব্রাহ্মণত্বের কানন নহে। সদাচার দ্বারা সকলেই ব্রম্মনত্ব লাভ করতে পারে।
(মহাভারত-অনুশাসন পর্ব, ১৪ অধ্যায়)

ব্রাহ্মণ সাধারণ নামধারী যে আর্যগন গোপালন বৃত্তি অবলম্বন করিয়াছিলেন, কৃষিজীবী হইয়া স্বধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। তাহারাই পিতবর্ন বৈশ্য হয়েছিলেন।
(মহাভারত শান্তিপর্ব, ১১৮ অধ্যায়)

"জম্মনা জায়তে শুদ্র, সংস্কারং দ্বিজ উচ্যতে। বেদ পাঠাৎ ভবেদ্ বিপ্র ব্রহ্ম জান্যতি স ব্রাহ্মণ"

অর্থাৎ কেবল ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করলেই উপনয়নের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ হন। উপনয়নের অধিকার সকলের আছে, এমনকি চারবর্ণের সকলেরই উপনয়নের অধিকার আছে। সেরূপে শুদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হবার অধিকারও সকলের আছে।

অর্থাৎ ব্রহ্ম'কে যিনি জানেন তিনিই কেবল ব্রাহ্মণ কেউ ব্রাহ্মণ হয়ে জম্মগ্রহণ করেন না। ব্রহ্মগায়ত্রী মন্ত্রজপ করে তবেই ব্রাহ্মণ হওয়া যায়। শাস্ত্রগ্রন্থ থেকে দেখা যায় অনেক নিম্নবর্ণের সাধু-পুরুষ নিজ যোগ্যতাই বলে ব্রাহ্মণ হয়েছেন, পুরুষের যদি গায়ত্রীমন্ত্র পাঠ পূর্বক উপনয়ন হয়।

শ্রুতির নির্দেশ এই যে, দ্বিজাতি প্রথমে মাতৃজঠর থেকে জন্মগ্রহণ করে; মৌঞ্জীবন্ধন অর্থাৎ উপনয়ন হলে হয় তার দ্বিতীয় জন্ম, এবং জ্যোতিষ্টোমাদি যজ্ঞে দীক্ষিত হলে তার তৃতীয় জন্ম হয়। (ঐ দীক্ষাকেও শ্রুতিমধ্যে জন্ম বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন, "ঋত্বিগগণ যে যজমানকে দীক্ষিত করেন, এখানে তারা পুনরায় গর্ভই সৃষ্টি করে থাকেন"।। (মনুস্মৃতি, ২/১৬৯)

যজ্ঞোপবীতঃ—

যজ্ঞোপবীত বা পৈতার অপরনাম প্রতিজ্ঞাসূত্র বা ব্রতসূত্র। আটবছর থেকে বার বছর বয়সের ভেতর প্রতিটি বৈদিক ধর্মালম্বীর উপনয়ন আবশ্যক এবং উপনয়নের মাধ্যমে এই পবিত্র সুত্রটি সে গুরুকর্তৃক প্রাপ্ত হয়।যদিও বর্তমানে পুরুষশাসিত ঘুনে ধরা সমাজ নারীদের থেকে এই অধিকার কেড়ে নিয়ে বেদের বিরুদ্ধাচরন করছে।

প্রতিটি পৈতা তিনটি আলাদা সূত্রকে গিট দিয়ে বেঁধে তৈরী।এই গিট বা বন্ধনকে ব্রহ্মগ্রন্থি বা ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত গ্রন্থি বলা হয়।এই তিনটি সূত্র ঈশ্বর কর্তৃক নির্দেশিত প্রতিটি মানুষের তিনটি ব্রত বা ঋন বা দায়িত্বের প্রতীক।কি সেই তিনটি ঋন যা প্রত্যেকটি মানুষকে শোধ করতে হয়?
                                        
আচার্য ব্রহ্মচারীকে উপনয়ন দিয়া নিজের সাহচর্যে রাখেন। আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তিন অবিদ্যা অন্ধকার দূর করিতে নিজের বিদ্যার বেষ্টনীর মধ্যে তাহাকে ধারণ করেন। যখন ব্রহ্মচারী বিদ্যালাভ করিয়া দ্বিতীয় জন্ম লাভ করে তখন তাহাকে দেখিবার জন্য সব দিক হইতে বিদ্বানেরা আসিয়া সমবেত হন। (অথর্ববেদ, ১১/৫/৩)
                                            
এই তিনসূত্র পরিধান করতে হয় জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য জানতে।যে ব্যক্তি যজ্ঞোপবীত ধারন করেন তিনি গুরুর কাছে এটা অবগত হন যে তিনটি ঋন তার শোধ করতে হবে- দেব, পিতৃ, ঋষি। (ঋগ্বেদ, ৯/৮৬/৩)

যজ্ঞপবীত সনাতনীদের কেন ধারন করা উচিৎ ? 

ও৩ম্ যজ্ঞোপবীতং পরমং পবিত্রং প্রজাপতের্যৎ সহজং পুরস্তাত্।
আয়ুষ্যমগ্রয়ং প্রতিমুঞ্চ শুভ্রং যজ্ঞোপবীতং বলমস্ত তেজঃ।।১।।

ও৩ম্ যজ্ঞোপবীতমসি যজ্ঞস্য ত্বা যজ্ঞোপবীতেনোপনহ্যামি।।২।।

(পারস্কর কান্ড ২। কন্ডিকা ২। সূত্র ১১)

যজ্ঞোপবীত বা পৈতার অপর নাম প্রতিজ্ঞাসূত্র বা ব্রতসূত্র।আটবছর থেকে বার বছর বয়সের ভেতর প্রতিটি বৈদিক ধর্মালম্বীর উপনয়ন আবশ্যক এবং উপনয়নের মাধ্যমে এই পবিত্র সুত্রটি সে গুরুকর্তৃক প্রাপ্ত হয়।যদিও বর্তমানে পুরুষশাসিত ঘূণে ধরা সমাজ নারীদের থেকে এই অধিকার কেড়ে নিয়ে বেদের বিরুদ্ধাচরন করছে।

যজ্ঞোপবীত ধারণ না করলে সনাতনীদের ক্ষতি কি?

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য শুদ্রের উপনয়ন সংস্কার হওয়া অতি আবশ্যক, কেননা উপনয়ন সংস্কার না হলে মানুষ বৈদিক কর্মকান্ডে্ অধিকারী হয় না। উপবীতহীন ব্যক্তি মন্ত্রপাঠ এবং বৈদিক ক্রিয়া করবার যোগ্য নয়। এই অধিকার প্রাপ্ত হেতু যজ্ঞপবীত ধারণ করানো হয়।
যজুর্বেদে বলা হয়েছে - "তদেতৎ সর্বমাপ্নোতি যজ্ঞে শ্রোত্রামণি সুতে (যজুর্বেদ, ১৯/৩১)

অর্থাৎ গ্রন্থিযুক্ত যজ্ঞোপবীত সূত্র ধারণ করিয়া যজ্ঞ করলে যজ্ঞের সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায়।

যজ্ঞোপবীত বা প্রতিটি পৈতা তিনটি আলাদা সূত্রকে গিট দিয়ে বেঁধে তৈরী। এই গিট বা বন্ধনকে ব্রহ্মগ্রন্থি বা ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত গ্রন্থি বলা হয়। এই তিনটি সূত্র ঈশ্বর কর্তৃক নির্দেশিত প্রতিটি মানুষের তিনটি ব্রত বা ঋন বা দায়িত্বের প্রতীক। কি সেই তিনটি ঋন যা প্রত্যেকটি মানুষকে শোধ করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে দেবঋণ, পিতৃঋণ ও ঋষিঋণ।

১) দেবঋণ- ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য এ পৃথিবী,পরিবেশ ও প্রানীকুলের প্রতি দায়িত্ব।পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তোলা,পরিবেশ শুদ্ধ করা ও জীবে সেবা করা দেবঋণের অন্তর্গত।

২) পিতৃঋণ- পিতামাতার প্রতি ঋন। নিঃস্বার্থভাবে এই দুই জীবন্ত দেবতা আমাদের মানুষ করেন, তাদের যথাসাধ্য সেবাযত্ন করা আমাদের কর্তব্য।

৩) ঋষিঋণ- প্রাচীন বৈদিক ঋষিগন থেকে শুরু করে নিজের গুরু-শিক্ষক,এরাই আমাদের প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তোলেন।এদের সেবা, অনুস্মরণ করা ই ঋষিঋণ।

উপনয়ন পঞ্চগিট- যজ্ঞোপবীত বা পৈতাতে মোট পাঁচটি গিট থাকে। এই পাঁচটি গিট উপরোক্ত ঋনসমূহ পরিশোধে পাঁচটি বাঁধার কথাকে স্মরন করিয়ে দেয়-কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, মোহ। অবস্থান- যজ্ঞোপবীত বাঁম কাধ থেকে ঝুলিয়ে ডান দিকের কোমর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে কেননা এত সূত্রটি ঠিক হৃদপিন্ডের উপর দিয়ে যায় যার মাধ্যমে প্রতীকিভাবে বোঝানো হয় নিজের দায়িত্বগুলো হৃদয় থেকে পালন করতে।

তবে নারীর উপনয়ন কিভাবে হবে ?

এই বিষয়ে স্ত্রী - ধর্মে তা উল্লেখ করা হবে। মনু সংহিতায় বলা হয়েছে - যে ব্রাহ্মণ ত্রিসন্ধ্যা ত্রিপদা গায়ত্রীমন্ত্র জপ করেন তিনি বেদবিৎ বলে পরিচিতি লাভ করেন।

বর্ণচতুষ্টয় কর্ম এবং গুণ অনুসারে সৃষ্টি করেছি। (গীতা ৪নং অধ্যায় ১৩নং শ্লোক) বলা হয়েছে।

সবার ঘরে নিশ্চয় গীতা আছে পারলে মিলিয়ে দেখুন, অহংকার ও ত্যাগ করে প্রকৃত ব্রাহ্মণ হোন। আমি কাউকে হেয় করে বলছি না, শুধু সত্য অনুস্মরণ ও অনুসন্ধানের জন্য বলছি।

তাই আসুন বৈদিক সাম্যবাদের পথ অনুসন্ধান ও অনুস্মরণ করি বেদের বৈষম্যহীন সনাতন সমাজ গঠন করি।

ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি!!!

জয় শ্রীকৃষ্ণ, জয় শ্রীরাম,
হর হর মহাদেব।

          শ্রী বাবলু মালাকার
  সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি  বেদ
বেদান্তদর্শন প্রচারক, বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments